“মোদের গরব, মোদের আশা, ওই ভাষাতেই প্রথম বোলে,
আ-মরি বাংলা ভাষা। ডাকিনু মায়ে মা, মা, বলে;
(মাগো) তোমার কোলে, তোমার বোলে, ওই ভাষাতেই বলব হরি,
কতই শান্তি ভালবাসা।। সাঙ্গ হলে কাঁদা হাসা।।”
* * * * *  
বিদ্যাপতি, চন্ডী, গোবিন, ———— গীতিকার ও সুরকার : অতুল প্রসাদ সেন
হেম, মধু, বঙ্কিম, নবীন—  
ওই ফুলেরই মধুর রসে  
বাঁধলো সুখে মধুর বাসা।।  
* * * * *  

পলাশি কলেজের অপরিহার্য অঙ্গরূপে বাংলা বিভাগের হাতেখড়ি হয়েছিল ২০১০ সালে। তখন অবশ্য সাধারণ পাঠক্রমই (General Course) বরাদ্দ ছিল। তবে সলতে তো পাকানো হলো ! কিন্তু প্রদীপ-সলিতায় আগুন দেবে কে ? তার উপর অর্থসংকটের বালাই ! আবার কলেজকেও তো এক জায়গায় গেঁড়ে বসতে হবে পাকাপাকিভাবে অর্থাৎ বাকি ছিল নিজস্ব ভবন নির্মাণের কাজ। এমতাবস্থায় কল্পতরুরূপে দেখা দিলেন দু’জন মানুষ — দীপক কুমার দত্ত ও অন্তিম দত্ত মহাশয়। বিনা পারিশ্রমিকে কেবল স্বেচ্ছা-শিক্ষাদানের উদ্দেশ্য নিয়েই বিভাগের দায়ভার ওঁরা তুলে নিয়েছিলেন নিজ স্কন্ধে। পড়ুয়াদের সংখ্যাও ছিল তখন হাতে গোনার মতো। কলেজের নিজস্ব ভবন নির্মাণের পূর্ব পর্যন্ত প্রাথমিক পর্বে ক্লাসগুলি চলত প্রাতঃকালে মীরা বালিকা বিদ্যানিকেতনের ভবনে। বিভাগ তার অঙ্কুরোদগম-পর্ব চুকিয়ে সবেমাত্র রবি-কিরণে দুটি কচি কিশলয় মেলে ধরেছে এমন সময় বিভাগ পেল তার প্রথম সরকার অনুমোদিত অংশকালীন শিক্ষক (PTT) অরুণাভ দত্ত মহাশয়কে। সময়টা ছিল ২০১২ সাল। ছেলেটি ছিল বেশ ! যেমন নবীন তেমনি ওঁর কর্মোদ্দীপনা।নতুন হাতেই দায়িত্ব নিল বিভাগের। ২০১৩ সালে সম্পাদনা করলো পলাশি কলেজের বার্ষিক পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ‘পলাশলিপি’। পুরাতন শিক্ষক মহাশয় দু’জন ততদিনে বিদায় নিলে ইতিমধ্যেই একে একে অতিথি অধ্যাপক হিসেবে বিভাগে যোগদান করেন সীমা খাতুন, দীপঙ্কর দে, চৈতালী বিশ্বাস, শুভাশীষ মণ্ডল, অনন্যা চ্যাটার্জী প্রমুখরা। বিভাগের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে পরিচালন সমিতির কর্তারা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, সাধারণ পাঠক্রমের পাশাপাশি সাম্মানিক পাঠক্রমও (Honours) চালু করতে হবে। ওনাদের চেষ্টা বাস্তবায়িত হয় ২০১৪ সালে। ততদিনে অবশ্য পলাশি রেলস্টেশন সংলগ্ন হাজরাপোতার পশ্চিমদিকের বিস্তীর্ণ নিচু জলাজমিতে নির্মিত হয়ে গেছে গুটিকতক ঘর নিয়ে পলাশি কলেজের নিজস্ব ভবনের অংশবিশেষ। দিনটি ছিল ২০১৪ সালের ১১ই জুলাই, বর্তমান কলেজ ভবনের ১০ নম্বর ঘরে শুরু হল প্রথম সাম্মানিক পাঠক্রমের পাঠদান। প্রথমদিনে জনাকয়েক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে পাঠদান পর্বের সূচনা করেছিলেন অতিথি অধ্যাপক শুভাশীষ মণ্ডল মহাশয়। একেবারে শুরুতেই সাম্মানিক বিভাগে ৩০-টি আসনের অনুমোদন পায়, পরে অবশ্য এটা বেড়ে হয় ৬০ ও বর্তমানে ১০০-টি। এরপর ২০১৪ সালের শেষের দিকে বিভাগ পেল তার প্রথম সহকারী অধ্যাপক ড. প্রবীর কুমার বৈদ্য মহাশয়কে। তিনি একদিকে যেমন বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন (২০১৪-২০১৭), তেমনি অন্যদিকে দায়িত্ব নিয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের (২০১৬-২০১৮)। পরবর্তীতে আসেন সহকারী অধ্যাপক ড. জুনাজার ইসলাম মহাশয়, যিনি ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বর্তমানে কলেবরে বৃদ্ধি পেয়েছে কলেজ-চত্বর, বেড়েছে ভবনের সংখ্যা, বিভাগ পেয়েছে তার নিজস্ব ঘর। বর্তমানে বিভাগ তার শৈশব দশা অতিক্রম করে গুটি গুটি পায়ে পৌঁছে গেছে যৌবনের বিস্তীর্ণ ক্ষেত্রে।

The Bengali Department of Plassey College started its journey in 2010. Initially confined to General Course. It has started offering Honours course to the students from 2014. The department had a difficult but eventful beginning, with a small number of students but was determined to impart knowledge of education since the very first day. The department began its ride in the hands of Mr. Dipak Kumar Dutta and Mr. Antim Kumar Dutta, and then was fostered by the likes of Mr. Arunava Mitra, Mr. Dipankar Dey, Chaitali Biswas, Suvasish Mondal and ananya Chatterjee. The intake capacity for Honours Course at the beginning was 30 (thirty) which is now expanded to 100 (hundred).